জাদুকরী

University তে একটা workshop হবে, যেখানে আমরা সবাই, অর্থাৎ টিচার, স্টুডেন্ট সবাই মিলে একসাথে একটা short film বানাবো। সবার খুব উৎসাহ, প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে বলা হল নিজের মতো করে গল্পের একটা প্লট ভেবে আসার জন্য। এমন একটা concept, যেটা university – র campus এর ভেতরেই shoot করা যাবে, বাইরে যেতে হবেনা! আমিও ভাবলাম, মানে বলা ভালো, ভাবা practice করলাম, হাজার হোক সিনেমার ছাত্রী তো! Practice এর সাথে theory কে না মেলালে চলবে কি করে! অনেক ভাবনা চিন্তার পর যা দাঁড়ালো সেটা খানিকটা গুল-গাপ্পি, খানিকটা জোড়া-তাপ্পি, খানিকটা স্বপ্ন, খানিকটা বাস্তব, খানিকটা আগের দিন অনেক রাত অবধি জেগে Pino Solanas এর “La Nube” দেখার ফল, এবং সিকি ছটাক মতো হলেও আত্মজীবনী! আমার concept এ এক ঝলকের জন্যও আমি দেখা দিয়ে যাব না, সে কি কখনো হতে পারে! পরের দিন University গিয়ে দেখি কয়েকটা concept থেকে একটু একটু করে অংশ নিয়ে একটা কোলাজ মত করা হচ্ছে, একটু প্রেম, একটু homosexuality, একটু প্রতিবাদ, একটু ব্যাঙ্গ ইত্যাদি দেখিয়ে শেষে দেখানো হবে এটা আসলে একটা workshop হচ্ছিল, যেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা সবাই কাজ শিখছে। আমার concept টা অনেকেরই পছন্দ হয়েছিল, কিন্তু ওটা থেকে একটু কিছু বার করে নেওয়া সম্ভব হল না! অনেক কিছু establish করতে হবে যে! ফলে ভাবা practice বৃথা গেল! কিন্তু জীবনের ধন কিছুই কি যাবে ফেলা? অনেকেরই যখন ভালো লেগেছে, তখন ওটা ‘সিনেকথা’-র বন্ধুদের সাথে শেয়ার করা যাক না কেন!

গল্পের নায়িকা সৃষ্টি একজন জাদুকরী, সে মানুষের মনের গোপন কথা বুঝতে পারে, এবং অতীতকে পড়তে পারে। প্রথম দিন University তে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সিনিয়র year এর একটি সুদর্শন ছেলে তার সাথে বন্ধুত্ব করতে আসে। ছেলেটির সঙ্গে তার বান্ধবীর ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। (কথাকলি / কথা রক্তিমকে তার ছোটবেলার বন্ধু অভ্র-র কথা সবসময় বলে, অভ্র খুব ভালো ছেলে, নম্র, ভদ্র, বিনয়ী, পড়াশোনায় brilliant, খুব অল্প বয়সে বাবাকে হারিয়েছে, তার নৃত্যশিল্পী মা কত কষ্ট করে অভ্রকে পড়িয়েছেন, আজ সেই অসুস্থ মাকে ছেড়ে অভ্রকে দিল্লীতে চাকরী নিয়ে চলে যেতে হয়েছে কেবলমাত্র সংসারের প্রয়োজনে; রক্তিম তাই অভ্র কে নিয়ে সবসময় সন্দিহান। একদিন ক্লাসে আসার পর কথার একটি ফোন আসে। কথা রক্তিম কে বলে সে মাঝের একটি ক্লাস করতে পারবে না, কারণ অভ্র অনেক দূর থেকে তার সাথে দেখা করতে আসছে, একটি বিশেষ প্রয়োজনে। কথা চলে গেলে রক্তিম সারা ক্লাস ছটফট করতে থাকে কথা কি করছে তাই ভেবে। ক্লাস শেষ হলে সে বেরিয়ে দেখতে পায় পিছন দিকের করিডোরে কথা আর অভ্র দুজন দুজন কে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। রক্তিম সেখান থেকে নীরবে চলে যায়, তারপর থেকে সে কথাকে avoid করে চলে।) সৃষ্টি বলে সে বন্ধুত্ব করতে রাজি আছে, কিন্তু রক্তিমকে তার পুরনো ঘটনাটা সৃষ্টির কাছে বলতে হবে। রক্তিম যখন সৃষ্টির কাছে নিজের পুরনো বান্ধবীর কথা বলছে, তখন দেখা যায় সৃষ্টি flush back এ রক্তিমকে অভ্র ও কথার কথোপকথনের মধ্যে নিয়ে যায়। জাদুর প্রভাবে রক্তিম ও সৃষ্টির উপস্থিতি অন্য দুজন বুঝতে পারে না। (রক্তিম জানতে পারে, অভ্র একটি দুরারোগ্য অসুখে আক্রান্ত, তার আয়ু অতি অল্প। অভ্রর মায়ের একমাত্র অবলম্বন সে নিজে, তাই মাকেও সে এই কথা জানাতে পারছে না। দিল্লীতে তার প্রেমিকাকেও সে এই কথা না জানিয়ে চলে এসেছে জীবনের শেষ কয়েকটি দিন মায়ের সাথে কাটাতে। কিন্তু কোন মন্ত্রবলে তার সেই প্রেমিকা তার মনের সব গোপন কথা জেনে গেছে – যে mobile number অভ্র তাকে কোনোদিন জানায়নি, সেই number এ তাকে SMS করে বলেছে, নিজের মায়ের সাথে সময় কাটাতে।) সৃষ্টি flush back এ রক্তিম কে বলে ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে ফেলার এটাই উপযুক্ত সময়, রক্তিম দেখতে পায় কথা আসছে, কিন্তু পিছন ঘুরে সে আর সৃষ্টিকে দেখতে পায় না। বিধ্বস্ত অবস্থায় কথা রক্তিমের দিকে ছুটে আসে, বলে রক্তিমকে তার অনেক কিছু বলার আছে। রক্তিম বলে, কথাকে কিচ্ছু বলতে হবে না, সে সব জানে। আবার দেখা যায়, একদল ছেলে মেয়ে University র চাতালে বসে আছে, সেখানে কথা ও রক্তিম গান করছে। সৃষ্টি আবার প্রথম দিন University এসে তাদের পাস দিয়ে হেটে যায়, রক্তিম উঠে এসে সৃষ্টিকে বলে কোথায় যেন সে তাকে দেখেছে। সৃষ্টি বলে, তা কি করে সম্ভব কারণ সে এই প্রথম কলকাতায় এবং University তে এসেছে। রক্তিম আর কথা একসাথে আড্ডায় ফিরে গেলে সৃষ্টি ওদের দিকে তাকিয়ে আপন মনে বলে ওঠে সে অতীতকে পড়তে পারে কিন্তু ভবিষ্যৎকে নয়, তার জাদুবিদ্যায় ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে, কিন্তু কোনও দুরারোগ্য মানুষকে সুস্থ করে তোলা যায় না।

জাদু করি

Seq 1 in/out University Campus (কথা, রক্তিম)

গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস শুরু হবে, কিন্তু কথা এখনও এসে পৌছয় নি। রক্তিম চিন্তিত, তাই ক্লাস ছেড়ে করিডোরে / বাইরে। ( বর্ষাকাল, outdoor এ আকাশে মেঘ জমে আছে!) কথা আসে, রক্তিমকে জানায় সে এই ক্লাসটা করতে পারছেনা, এবং সম্ভবত বিকেলে ক্লাসের পরে তাদের বন্ধুদের যে গানের আড্ডায় তাদের একসাথে যাবার কথা ছিল সেখানেও তার যাওয়া হবে না, কারন তার ছোটবেলার বন্ধু অভ্র আসছে দিল্লী থেকে, একটি বিশেষ প্রয়োজনে তার সাথে দেখা করতে। কথাকলি / কথা রক্তিমকে তার ছোটবেলার বন্ধু অভ্র-র কথা সবসময় বলে, অভ্র খুব ভালো ছেলে, নম্র, ভদ্র, বিনয়ী, পড়াশোনায় brilliant, খুব অল্প বয়সে বাবাকে হারিয়েছে, তার নৃত্যশিল্পী মা কত কষ্ট করে অভ্রকে পড়িয়েছেন, আজ সেই অসুস্থ মাকে ছেড়ে অভ্রকে দিল্লীতে চাকরী নিয়ে চলে যেতে হয়েছে কেবলমাত্র সংসারের প্রয়োজনে; রক্তিম তাই কথার ব্যাপারে অভ্র কে নিয়ে সবসময় সন্দিহান। University তে কথা তার best friend হলেও কথাকে তার ভালো লাগে এই কথাটা  কথাকে এখনও জানানো হয়নি যে!

Seq 2 indoor (University Class) (রক্তিম, ছাত্র ছাত্রী)

ক্লাসে রক্তিম একদম মনযোগী হতে পারছেনা। সবকিছুই তার ‘কথার কথা’ মনে হচ্ছে!

Seq 3 in/out University Campus (কথা, রক্তিম, অভ্র)

ক্লাস শেষ হলে রক্তিম কথাকে খুজে বেড়ায় University চত্তরের বিভিন্ন জায়গায়। কথা মোবাইল ধরছে না, রক্তিম তাদের অন্য একজন বান্ধবিকে ফোন করে জিজ্ঞেস করে কথা তার সাথে আছে কি না, সে উত্তর দেয় আজকে তার কথার সাথে দেখা হয়নি। শেষমেশ ঘুরতে ঘুরতে রক্তিম দেখতে পায় University র পিছন দিকের কোনও একটি নির্জন জায়গায় কথা আর অভ্র দুজন দুজন কে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। রক্তিম সেখান থেকে নীরবে চলে যায়, ঠিক করে এরপর থেকে সে কথাকে avoid করে চলবে। হঠাৎ তার মোবাইলে কথার ফোন আসে। নির্দয় ভাবে ফোনটা কেটে দিয়ে University র অন্য দিকের আর একটি নির্জন জায়গার দিকে হাঁটা লাগায় রক্তিম (মন্তাজ / Dissolve – time laps, University তে কথা ও রক্তিমের বিভিন্ন স্মৃতি)।

Seq 4 outdoor University Campus (সৃষ্টি, রক্তিম)

সেখানে পৌঁছে দেখে তার আর কথার খুব প্রিয় একটা আড্ডা মারার জায়গায় একটি অপরিচিত মেয়ে যেন তারই অপেক্ষায় বসে আছে, ঠিক যেমন কথা তার জন্য অপেক্ষা করত! মেয়েটার হাবেভাবে মনে হয় সে যেন রক্তিমের কত দিনের পরিচিত! রক্তিম সোজাসুজি মেয়েটির সাথে বন্ধুত্ব করতে চাইলে দেখা যায় মেয়েটি রক্তিমের নাম জানে, কথাকলির প্রতি রক্তিমের দুর্বলতার কথাটাও জানে, এবং সে এটাও জানে যে আজকে তার সাথে কথার একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সে রক্তিমকে বলে তার নাম সৃষ্টি, আর সে রক্তিমের সাথে বন্ধুত্ব করতে রাজি আছে, যদি রক্তিম তার আর কথার আজকের ভুল বোঝাবুঝির ঘটনাটা তাকে খুলে বলে। রক্তিম বলে কথা সেই তার সাথে বন্ধুত্ব হবার দিন থেকে তাকে অভ্রর গল্প শুনিয়ে আসছে। প্রথম থেকেই তার মনে হয়েছিল, অভ্রর প্রতি কথার একটা দুর্বলতা আছে সেই ছোটবেলা থেকে। আজকের দৃশ্যর পর সে নিঃসন্দেহ হয়েছে। সৃষ্টি বলে এও তো হতে পারে কথা আর অভ্রর এই পারস্পরিক দুর্বলতাটা কেবলই বন্ধুত্ব, তার বেশি কিছু নয়, অভ্রও হয়তো অন্য কাউকে ভালবাসে, যাকে সে তার এই ছোটবেলার বান্ধবীর গল্প শুনিয়েছে খুব করে, যেমন কথা শুনিয়েছে অভ্রকে! আসলে কথা হয়তো বুঝতে পারে, রক্তিম তাকে সত্যিই ভালবাসে কিন্তু বলে উঠতে পারে না! রক্তিম বলে তার মনে সন্দেহের আর কোনও অবকাশ নেই কারন সে বেশ একটু দুরের থেকে দেখলেও এটুকু বুঝতে পেরেছিল যে তারা দুজনেই দুজনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিল আর কথা বারবার অভ্রকে বলছিল – ‘তুই এত দেরি করলি কেন! বল, বল?’ তার মনে হয় আজ অভ্র কথাকে propose করেছে, কে জানে, এতক্ষণে হয়তো kiss ও করেছে! সৃষ্টি হঠাৎ খানিকটা ব্যাঙ্গ করেই রক্তিমকে জিজ্ঞাসা করে, অভ্র কথাকে kiss করলে রক্তিমের গা জ্বলছে কেন? University তে তার সবথেকে প্রিয় বান্ধবি কথা কোনও দিন রক্তিমকে kiss করেনি কি? রক্তিম smartly উত্তর দেয়, কথা তাকে kiss করেনি কোনোদিন, ঠিকই, কিন্তু সৃষ্টি যদি আজকে এখনই তাকে একটা kiss করে তো he won’t mind! সৃষ্টি অভ্রকে চোখ বন্ধ করতে বলে। অভ্র চোখ বন্ধ করার পর সৃষ্টি অভ্রর গালে একটা চুমু দিতেই খুব কাছাকাছি কোথাও একটা বাজ পড়ার আওয়াজে চমকে উঠে চোখ খুলে অভ্র দেখতে পায় সৃষ্টির যেন কোনও অজানা কারনে প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে – তার নাক দিয়ে একফোঁটা রক্ত বেড়িয়ে আসে, সে দুহাতে নাক ঢাকে। রক্তিম তার কাছে গিয়ে হাত ধরে দেখতে পায় একফোঁটা রক্ত সৃষ্টির হাতে একটা ছোট্ট চুনিতে পরিণত হয়েছে! সৃষ্টির কি হয়েছে জানতে চাইলে সৃষ্টি বলে সে রক্তিম আর কথাকলির ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে দিতে চায়, কিন্তু তার জন্য রক্তিমকে তাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে হবে, তাদের হাতে সময় বড় কম!

ছোট্ট চুনিটা নিয়ে সৃষ্টি রক্তিমের ডান হাতের অনামিকায় লাগিয়ে দেয়। চুনিটা কোনও আংটি ছাড়াই রক্তিমের আঙুলে আটকে যায়! সৃষ্টি রক্তিমকে বলে এই জাদু চুনির প্রভাবে আশেপাশের কেউ তাদের উপস্থিতি বুঝতে পারবে না। দেখা যায় রক্তিম কিছুক্ষণ আগে তার যে বান্ধবীকে ফোন করেছিল, সে অন্য একটি ছেলের সাথে ওদিকে হেটে আসছে, কিন্তু রক্তিম বা সৃষ্টি কাউকেই যেন দেখতে পাচ্ছেনা! মেয়েটি তাদের পাশ দিয়ে যাবার সময় তার মোবাইলে একটা ফোন আসে। রক্তিম আশ্চর্য হয়ে খেয়াল করে কিছুক্ষণ আগে তার সাথে হওয়া কথোপকথনের অবিকল পুনরাবৃত্তি হয়ে চলেছে! সৃষ্টি তার হাত ধরে তাকে সেখান থেকে টেনে নিয়ে যায়।

Seq 5 outdoor University Campus (সৃষ্টি, কথা, রক্তিম, অভ্র)

রক্তিমকে নিয়ে কথা এসে উপস্থিত হয় সেই জায়গাটায় যেখানে রক্তিম কথা আর অভ্রকে একসাথে দেখেছিল। দেখা যায় অভ্র একা বসে মোবাইলে sms পড়ছে। তার মুখে অদ্ভুত একটা বিস্ময় মাখানো আনন্দের হাসি। দেখা যায় দূর থেকে কথা আসছে দেখে অভ্র আনন্দে উঠে দাঁড়ায়। যেন অনেকদিন বাদে তার পুরনো বান্ধবীর সাথে দেখা হল। জাদুর প্রভাবে অদৃশ্য থেকে একটু দূরে দাড়িয়ে কথা আর অভ্রের সমস্ত কথোপকথনের সাক্ষী থাকে সৃষ্টি আর রক্তিম। রক্তিম জানতে পারে, অভ্র একটি দুরারোগ্য অসুখে আক্রান্ত, তার আয়ু অতি অল্প। অভ্রর মায়ের একমাত্র অবলম্বন সে নিজে, তাই মাকেও সে এই কথা জানাতে পারছে না। দিল্লীতে তার প্রেমিকাকেও সে এই কথা না জানিয়ে চলে এসেছে জীবনের শেষ কয়েকটি দিন মায়ের সাথে কাটাতে। কিন্তু কোন মন্ত্রবলে তার সেই প্রেমিকা তার মনের সব গোপন কথা জেনে গেছে – যে mobile number অভ্র তাকে কোনোদিন জানায়নি, সেই number এ তাকে SMS করে বলেছে, নিজের মায়ের সাথে সময় কাটাতে।আরও জানিয়েছে, খুব তাড়াতাড়ি কলকাতায় দেখা হবে! রক্তিম দেখে কথাও তার পুরনো বন্ধুর কাছে রক্তিমের গল্প করছে। বলছে, যদিও এখনও তারা খুব ভালো বন্ধুর চাইতে বেশি কিছু নয়, তাও তার রক্তিমকে ভালো লাগে, এবং তার ধারনা রক্তিমও তাকে পছন্দ করে। অভ্র বলে আজ তাকে চলে যেতে হবে, বাড়িতে মা অপেক্ষা করছেন। তবে সে আবার Universityতে আড্ডা মারতে আসতে চায়, খুব তাড়াতাড়ি। তার সময়ের বড় অভাব… জীবনের শেষ কটা দিন বন্ধুদের সাথে জীবনের উষ্ণতা উপভোগ করবে বলেই সে চলে এসেছে… বলতে বলতে কেঁদে ফেলে অভ্র, কথাও কাঁদতে কাঁদতে তাকে জড়িয়ে ধরে… বলে ‘তুই এত দেরি করলি কেন! বল, বল?’… রক্তিমকে আবার হাত ধরে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে আসে সৃষ্টি, আগের বার যেখানে রক্তিম কথার ফোন কেটে দিয়েছিল সেখানে এসে দাঁড়ায় ওরা দুজন, তখন রক্তিমের চোখেও জলের ধারা। সৃষ্টি যেন অনেক দুরের থেকে তাকে বলে কথাকলির সাথে ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নেবার এটাই উপযুক্ত সময়, সৃষ্টি তো রইলই বন্ধুর জন্য! রক্তিমের পকেটে তার মোবাইল বেজে ওঠে, বার করে দেখে কথার ফোন, কিন্তু চোখ তুলে আর সৃষ্টিকে দেখতে পায় না। রক্তিম ফোন ধরে এবং কথাকে তার কাছে চলে আসতে বলে University র অন্য প্রান্তে তাদের পছন্দের নির্জন আড্ডার জায়গায়।

Seq 6 outdoor University Campus (কথা, রক্তিম)

উদ্ভ্রান্তের মত কথা আসে, বলে তার রক্তিমকে অনেক কিছু বলার আছে… রক্তিম কথার ঠোঁটে তার আঙ্গুল ঠেকিয়ে তাকে চুপ করায়, বলে, সে সব জানে, কথাকে কিচ্ছু বলতে হবে না। সে শুধু কথাকে জানাতে চায় সে কথাকে ভালবাসে। কথা যদি তার ভালোবাসাকে গ্রহণ করে তাহলে যেন তাকে একটা kiss করে, কিচ্ছু বলতে হবে না, সে চোখ বুজে অপেক্ষা করছে। কথা রক্তিমের গালে একটা kiss করতেই প্রচণ্ড বাজ পড়ার শব্দ হয় এবং রক্তিম জন্ত্রনায় চিৎকার করে ওঠে। দেখা যায় রক্তিমের ডান হাতের অনামিকায় চুনির জায়গায় একটা তাজা ফোস্কা পড়েছে! কথা জিজ্ঞাসা করে রক্তিমের হাতে ফোস্কা পড়ল কি করে? রক্তিম উত্তর দেয় সে যেন হঠাৎ করে অনেক কিছু ভুলে গেল! কে যেন তাকে একটা কিছু রাখতে দিয়েছিল… সাত রাজার ধন, এক মানিক! কিন্তু তার আর কিচ্ছু মনে পড়ছে না!

Seq 7 outdoor University Campus গানের আড্ডা (সৃষ্টি, কথা, রক্তিম, আন্যান্য ছাত্র ছাত্রী)

গানের আড্ডায় মধ্যমণি রক্তিম গান গাইছে, পাসে ঘনিষ্ঠ ভাবে বসে কথাকলি। একটু দূর দিয়ে হেটে চলে যাচ্ছে সৃষ্টি, অন্য পোশাক, অন্য look। রক্তিম তাকে দেখতে পেয়ে কথাকে বলে, সে এই মেয়েটাকে চেনে, কোথায় যেন দেখেছে, কিন্তু মনে করতে পারছে না। কথা মজা করে বলে অপরিচিত সুন্দরী মেয়ে দেখলেই রক্তিমের মনে হয়, কোথায় যেন দেখেছে। কথার ঠাট্টা অগ্রাহ্য করে রক্তিম আড্ডা ছেড়ে সৃষ্টির কাছে যায়, সাথে কথাও যায়। রক্তিম উঠে এসে সৃষ্টিকে বলে কোথায় যেন সে তাকে দেখেছে। সৃষ্টি বলে, তা কি করে সম্ভব কারণ সে এই প্রথম কলকাতায় এবং University তে এসেছে। রক্তিম আর কথা একসাথে আড্ডায় ফিরে গেলে সৃষ্টি ওদের দিকে তাকিয়ে আপন মনে বলে ওঠে সে অতীতকে পড়তে পারে কিন্তু ভবিষ্যৎকে নয়, তার জাদুবিদ্যায় ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে বটে, কিন্তু কোনও দুরারোগ্য মানুষকে সুস্থ করে তোলা যায় না।

Script জাদু করি

Seq 1 in/out University Campus (কথা, রক্তিম, সায়ক, অন্যান্য ছাত্রছাত্রী)

রক্তিম university building এর বাইরে দাড়িয়ে আছে, বন্ধুরা একে একে ক্লাসে যাচ্ছে, এক বন্ধু রক্তিমকে জিজ্ঞেস করে…

বন্ধু ১ – কি রে, এখনও এখানে দাড়িয়ে আছিস? ক্লাস করবি না!

রক্তিম – আসছি, তোরা এগো।

বন্ধু ১ – এই ক্লাসটা মিস করিস না, D. S. S. আজকে ন্যুভেল ভাগ পড়াবেন, ক্লাস বাঙ্ক করলে পরে কিন্তু পস্তাতে হবে। (বন্ধু ১ চলে যায়।)

একে একে প্রায় সবাই building এর ভেতরে চলে যায়, রক্তিম দাড়িয়ে থাকে, অস্থির ভাবে এদিক ওদিক করতে করতে দেখতে পায় তাদের বন্ধু সায়ক আসছে…

রক্তিম – সায়ক, কথা কে দেখেছিস?

সায়ক(দার্শনিকের মত মুখ করে) কথা তো শোনার জিনিস, কথা কি কখনও দেখা যায়!

রক্তিম – ফাজলামি রাখ, হতভাগা! আমাদের ক্লাসমেট কথাকলির কথা বলছি।

সায়ক – ও, তাই বল! কথার কথা বলছিস!

রক্তিম – হ্যাঁ, তাই, দেখেছিস ওকে?

সায়ক – বহুবার! গত এক বছর ধরে দেখে আসছি, বেশ ভালই দেখতে!

রক্তিম – থাপ্পড় খাবি! আজ কথার সাথে দেখা হয়েছে কি না তাই বল।

সায়ক(হেসে) আজকে এখনও পর্যন্ত দেখা হয়নি বটে, কিন্তু তুই চাপ নিস না। এত ভালো একটা ক্লাস, কথার মত সিরিয়াস মেয়ে নিশ্চয়ই মিস করবে না। ও ঠিক চলে আসবে, তুই ক্লাসে চল। ঢুকতে দেরি হলে D. S. S. মিছরির ছুরি চালাবে, জানিসই তো!

রক্তিম(অন্য দিকে তাকিয়ে) এগো, আসছি।

সায়ক – নিতান্তই আসবি না! আচ্ছা, তাহলে আর কি করা যাবে, চললাম। (একটু এগিয়ে গিয়ে পেছন ফিরে বলে) দেখিস, কথায় কথায় আবার রাত না হয়ে যায়!

রক্তিম রাগী মুখে ঘুরে দাড়িয়ে দেখতে পায়, সায়ক গান গাইতে গাইতে চলে যাচ্ছে ‘কথায় কথায় যে রাত হয়ে যায়, কি কথা রাখলে বাকি…’ অন্য দিকে ফিরে রক্তিম দেখতে পায়, কথা আসছে, কিন্তু সাথে খাতা, বই, ব্যাগ, কিছুই নেই…

কথা – রক্তিম, আজকের ক্লাসটা আমি করতে পারছি না।

রক্তিম – সে কি রে? এই ক্লাসটা তো ভীষণ দরকারি ক্লাস। D.S.S. আগের দিন বলে দিয়েছেন, মনে নেই?

কথা – হ্যাঁ, মনে আছে, কিন্তু উপায় নেই! তুই প্লিজ ক্লাসটা কর, ভালো করে নোট নিস, আমি পরে তোর থেকে নিয়ে নেব।

রক্তিম – সে না হয় হল, কিন্তু উপায় নেই বলছিস কেন? এখনও তো সময় আছে, আর তুই তো এসেই গেছিস… চল ক্লাসে ঢুকে পড়ি।

কথা – সত্যিই উপায় নেই রে, অভ্র ফোন করেছিল, ও কলকাতা এসেছে, আমার সাথে দেখা করতে university আসছে।

অভ্রর নাম শোনার সাথে সাথেই রক্তিমের মুখ গম্ভীর হয়ে গেল, সে বলল…

রক্তিম – তা দেখাটা ক্লাসের পরে করলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে! তোর প্রানের প্রিয় বাল্যবন্ধু নাহয় একঘণ্টা আমাদের ক্যান্টিনে বসে থাকল তোর অপেক্ষায়। তাতে বোধয় ওর জাত যাবে না।

কথা – প্লিজ, রক্তিম! একটু বোঝার চেষ্টা কর। ও সোজা এয়ারপোর্ট থেকে এখানে আসছে… বলল খুব জরুরি দরকার। একটা অচেনা নাম্বার থেকে ফোন করেছিল, ওর গলাটা আমার খুব ভারি ভারি শোনালো। গত এক মাস ধরে ওর সাথে যোগাযোগ করতে পারছি না… ফোন ধরছিল না, ফেসবুকে অনলাইন হচ্ছিল না… ওর নিশ্চয়ই কোনও বিপদ হয়েছে, আমি ওকে বসিয়ে রাখতে পারবো না, তোকে তো আমি সব বলেছি, তুই তো জানিস…

রক্তিম(রেগে গিয়ে) হ্যাঁ, জানি, জানিই তো! তোর সঙ্গে আলাপের প্রথম দিন থেকে তো খালি অভ্রকেই জেনে চলেছি – তোর কাছে তো অভ্রর মত ছেলে আর হয় না! নম্র, ভদ্র, বিনয়ী, পড়াশোনায় brilliant, খুব অল্প বয়সে বাবাকে হারিয়েছে, তার নৃত্যশিল্পী মা কত কষ্ট করে অভ্রকে পড়িয়েছেন,  সেই অসুস্থ মাকে ছেড়ে তাকে দিল্লীতে চাকরী নিয়ে চলে যেতে হয়েছে কেবলমাত্র সংসারের প্রয়োজনে; আর  কত জানব, গুরু! জানতে জানতে প্রায় জানোয়ার হবার দশা! অভ্রকে এই জানা আমার ফুরাবেনা!

কথা – তোর পায়ে পড়ি, রক্তিম! তুই যদি এরকম অবুঝের মত করিস তাহলে আমি কোথায় যাই। বন্ধুর এই বিপদের দিনে আমি তার পাসে দাঁড়াবো না? আর ও শুধু আমার বন্ধু নয়, তার থেকেও অনেক বেশি কিছু। আমাদের মায়েরা আমাদের এক কাঁথায় শুইয়ে রেখে গল্প করত, মায়ের মুখে শুনেছি। মেসো যখন মারা গেলেন, তখন ওদের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছিল, যেদিন ওদের ঘরে খাবার থাকত না, সেদিন মাসি ওকে জোর করে আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিত, আর আমার মা একটা থালায় ভাত মেখে একগাল ওর মুখে দিত, আর একগাল আমার মুখে… সেই কোন চোখ ফোটা বয়স থেকে একসাথে খুনসুটি করে বড় হয়েছি, বাবা আমার জন্য একটা জামা কিনলে ওর জন্যও একটা কিনে আনত। মাত্র এক বছরের বড়, আমার সমস্ত পড়াশুনায় অভ্র ছিল আমার গাইড! ওর পড়ার বই, নোট-পত্র, সব আমার একছত্র সম্পত্তি ছিল। আর তুই এখনও বুঝতে পারলি না, সে আমার কে! তুই না আমার best friend?

রক্তিম – মনে হয় বুঝতে পেরেছি, অভ্র তোর কে! আগেই বোঝা উচিত ছিল! যাই হোক, better let than never! নোট নিয়ে চিন্তা করিস না, তোকে নোট দেবার লোকের অভাব নেই, বুঝতেই তো পারছিস। তুই এগিয়ে যা, best of luck!

রক্তিম কথাকে ফেলে ক্লাসের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে, কথা অসহায়ের মত দাড়িয়ে থাকে। বেশ খানিকটা এগিয়ে যাবার পরে রক্তিম কি মনে করে একবার কথার দিকে ফিরে তাকায়। কথা রাগত স্বরে বলে ওঠে…

কথা – বেবোধ কোথাকার!

রক্তিম ক্লাসের দিকে এগোয়, কথা দাড়িয়ে থাকে অসহায় ভাবে।

End of sequence 1

One Response to জাদুকরী

  1. sanjeeb banerjee বলেছেন:

    Interesting …

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s